মাদরাসায় পড়াকালীন আমার আশেপাশে আমি কাদের দেখতাম?
এক্সিডেন্ট করে কোনোমতে বেঁচে গেছে বাপ-মা তারে মাদরাসায় দিছে।
অনেক বছর অনেক ঘাটের পানি খেয়েও বাচ্চা হয় না তারপর জামাই বউ মিলে মানত করে নিছে যে, বাচ্চা হলে মাদরাসায় দিবে। দেখা যায় বাচ্চা হয় আর তখন মাদরাসায় দিয়ে দেয়।
বাচ্চা রোগা-পটকা, অসুস্থ তারে মাদরাসায় দেয়।
মইরা যাবে যাবে ভাব কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বেঁচে গেছে তারে মাদরাসায় দেয়।
পড়াশুনায় মন নাই, সারাদিন বান্দরামি করে তারে পাঠায় মাদরাসায়।
আল্টিমেটলি দেখা যাচ্ছে সব রিজেক্ট মাল গুলারে মাদরাসায় পাঠানো হচ্ছে।
এর মধ্যে একদল আছে আমি তো গরীব আমার পোলাপান মাদরাসাতেই স্যুট করে।
আর কিছু পোলাপান এর কোনো আত্মীয় থাকে মাদরাসা পড়ুয়া। ছোটবেলায় তারে দেখে ভালো টালো লাগে। তখন পিচ্চিকাল্য সময়ে পোলাপান বলে আমি অমুকের মত হবো। ব্যাস!! তারেও মাদরাসায় পাঠাও।
বাংলাদেশে এখন আতুড়া লেংড়ার প্রচলনটা কমলেও যেটা বাড়ছে তা হচ্ছে যে, আমি জীবনে অনেক আকাম করছি সুতরাং বাচ্চা একটারে মাদরাসায় পাঠাতে হবে। জান্নাত কনফার্ম করা ছাড়া উপায় নাই।
একি!! বংশে একটা হুজুর নাই? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তো হইলো হুজুর লাগবে না একটা? প্যাকেজ কমপ্লিট হইলো না তো!! দোয়া করবে কে? দে অমুকের পোলারে/ মাইয়ারে মাদরাসায় দে!!
আমি মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করার পর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হইছিলাম। আমার আত্মীয়-স্বজনের মাথা খারাপ হয়ে গেলো! আমার মেঝ ফুপু অস্থির হয়ে গেলো। আমারে দেখলেই বলতো এটা সেটা। আমার বাপের মাথা এই মহিলাই খারাপ করে দিলো। বাপ-মা এরপর সারাদিন ঝগড়া শুরু করলো। বাপ কয় মা আমারে লাই (প্রশ্রয়) দিয়া মাথায় উঠাইছে এখন তাই মাদরাসা ছাইড়া আমি কলেজে গেছি। আর মা কয় বাপে পারমিট করছে দেইখ্যাই আমি কলেজে। এই নিয়া তাদের সারাদিন তুমুল ঝগড়া!!
শেষে না পাইরা মেন্টাল প্রেশারে আমি আবার মাদরাসায় ফেরত গেলাম।
২০১৪ তে আমি যখন আলিম ১ম বর্ষে, সিলেট ঘুরতে গেলাম।
ক্লাসমেটের কাছ থেকে ধার করে প্যান্ট শার্ট নিয়া ঐসব পড়ে ঘুরতে গেলাম। ফেইসবুকে ছবি দিলাম। আমার ফুপু বাপের কাছে জানাইলো পোলা গেছে!
অথচ তার পোলাপান মাদরাসায় পড়ে না, জন্মের পর থ্যিকা তারেও কোনোদিন বোরকাটাও পড়তে দেখি নাই।
তো প্রায় সব পরিবার গুলাতে এই চলে। তারা চিন্তায় পড়ে যায় একটারে মাদরাসায় দেয়া হইলো এইটায় আবার ঐখান থ্যিকা বাইর হয় কেন? তাইলে দোয়া করবে কে?
রোজায় মাদরাসা বন্ধ থাকতো। আমি বাসায় যেতাম। এইবার ওনাদের আবদার মিটানো অর্ডার আসতো, একটা কুরআন খতম লাগবে! এমন অনেক গুলা জমতো। দাদার জন্য আছে, নানুর জন্য আছে, এরপর আরো কিছু আছে। তাদের অনেক কাজ তাই তারা পড়তে পারবে না, তাদের প্রক্সি দিতে হবে।
মাদরাসার ছাত্রগুলা হয় পরিবারের দোয়ার বাক্স।
পরিবারের কারো ঠ্যাং ভেঙে গেছে? আলিফ রে কল দাও। দোয়া করো। অমুকের পেটে ব্যাথা উঠছে, দোয়া করো। অমুক মরে গেছে, দোয়া করো।
সারা পরিবার আকাম করবে আর যেই মালটারে ধইরা বাইন্ধ্যা মাদরাসায় পড়ানো হইছে অয় দোয়া করবে। সব গুনাহ মাফ হইয়া ধুইয়া সাফ হইয়া যাবে।
কোথাও মিলাদ পড়াবে শুনলে আমি যাইতাম না, যাই না। কোথাও দোয়া হবে আমি যাইতাম না। কেউ অসুস্থ আমি যাইতে চাইতাম না। কেন? কারণ একটাই, গেলেই শুরু হবে "আলিফ এইটা পড় ঐটা পড় দোয়া পইড়া ঝাঁড় ফুক কর"। আমি কি ঝাড় ফুক শিখ্যা বইসা আছি?
তো আমি বিরক্ত হই বলেই যাই না। আর যেখানে ঠেকে যাই, কিছু না বুঝেই সুরা ফাতেহা অথবা দরূদ শরীফ পড়ে ফু দিয়ে দেই। তারা খুশি হইয়া যায়!!
আজ আমি যখন এটা লিখছি, আমার নানা মরে মরে অবস্থা। নানা মিরপুরে ছিলো এখন সবাই আশা ছেড়ে দিছে তাই বাড়িতে নিয়ে গেছে। আমাকে মা ফোন দিছে। আমি তো সরাসরি না করতে পারি না। ঠেকায় পড়েই যাচ্ছি।
কথা হচ্ছে নানার প্রতি আমার আবেগ, ভালোবাসা কম? না কম না। তাইলে আমি কেন যাইতে অনাগ্রহী? আমি দোয়ার বাক্সটা হইতে চাই না। এইটা বিরক্তিকর।
এক্সিডেন্ট করে কোনোমতে বেঁচে গেছে বাপ-মা তারে মাদরাসায় দিছে।
অনেক বছর অনেক ঘাটের পানি খেয়েও বাচ্চা হয় না তারপর জামাই বউ মিলে মানত করে নিছে যে, বাচ্চা হলে মাদরাসায় দিবে। দেখা যায় বাচ্চা হয় আর তখন মাদরাসায় দিয়ে দেয়।
বাচ্চা রোগা-পটকা, অসুস্থ তারে মাদরাসায় দেয়।
মইরা যাবে যাবে ভাব কিন্তু অস্বাভাবিকভাবে বেঁচে গেছে তারে মাদরাসায় দেয়।
পড়াশুনায় মন নাই, সারাদিন বান্দরামি করে তারে পাঠায় মাদরাসায়।
আল্টিমেটলি দেখা যাচ্ছে সব রিজেক্ট মাল গুলারে মাদরাসায় পাঠানো হচ্ছে।
এর মধ্যে একদল আছে আমি তো গরীব আমার পোলাপান মাদরাসাতেই স্যুট করে।
আর কিছু পোলাপান এর কোনো আত্মীয় থাকে মাদরাসা পড়ুয়া। ছোটবেলায় তারে দেখে ভালো টালো লাগে। তখন পিচ্চিকাল্য সময়ে পোলাপান বলে আমি অমুকের মত হবো। ব্যাস!! তারেও মাদরাসায় পাঠাও।
বাংলাদেশে এখন আতুড়া লেংড়ার প্রচলনটা কমলেও যেটা বাড়ছে তা হচ্ছে যে, আমি জীবনে অনেক আকাম করছি সুতরাং বাচ্চা একটারে মাদরাসায় পাঠাতে হবে। জান্নাত কনফার্ম করা ছাড়া উপায় নাই।
একি!! বংশে একটা হুজুর নাই? ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তো হইলো হুজুর লাগবে না একটা? প্যাকেজ কমপ্লিট হইলো না তো!! দোয়া করবে কে? দে অমুকের পোলারে/ মাইয়ারে মাদরাসায় দে!!
আমি মাদরাসা থেকে দাখিল পাশ করার পর সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ভর্তি হইছিলাম। আমার আত্মীয়-স্বজনের মাথা খারাপ হয়ে গেলো! আমার মেঝ ফুপু অস্থির হয়ে গেলো। আমারে দেখলেই বলতো এটা সেটা। আমার বাপের মাথা এই মহিলাই খারাপ করে দিলো। বাপ-মা এরপর সারাদিন ঝগড়া শুরু করলো। বাপ কয় মা আমারে লাই (প্রশ্রয়) দিয়া মাথায় উঠাইছে এখন তাই মাদরাসা ছাইড়া আমি কলেজে গেছি। আর মা কয় বাপে পারমিট করছে দেইখ্যাই আমি কলেজে। এই নিয়া তাদের সারাদিন তুমুল ঝগড়া!!
শেষে না পাইরা মেন্টাল প্রেশারে আমি আবার মাদরাসায় ফেরত গেলাম।
২০১৪ তে আমি যখন আলিম ১ম বর্ষে, সিলেট ঘুরতে গেলাম।
ক্লাসমেটের কাছ থেকে ধার করে প্যান্ট শার্ট নিয়া ঐসব পড়ে ঘুরতে গেলাম। ফেইসবুকে ছবি দিলাম। আমার ফুপু বাপের কাছে জানাইলো পোলা গেছে!
অথচ তার পোলাপান মাদরাসায় পড়ে না, জন্মের পর থ্যিকা তারেও কোনোদিন বোরকাটাও পড়তে দেখি নাই।
তো প্রায় সব পরিবার গুলাতে এই চলে। তারা চিন্তায় পড়ে যায় একটারে মাদরাসায় দেয়া হইলো এইটায় আবার ঐখান থ্যিকা বাইর হয় কেন? তাইলে দোয়া করবে কে?
রোজায় মাদরাসা বন্ধ থাকতো। আমি বাসায় যেতাম। এইবার ওনাদের আবদার মিটানো অর্ডার আসতো, একটা কুরআন খতম লাগবে! এমন অনেক গুলা জমতো। দাদার জন্য আছে, নানুর জন্য আছে, এরপর আরো কিছু আছে। তাদের অনেক কাজ তাই তারা পড়তে পারবে না, তাদের প্রক্সি দিতে হবে।
মাদরাসার ছাত্রগুলা হয় পরিবারের দোয়ার বাক্স।
পরিবারের কারো ঠ্যাং ভেঙে গেছে? আলিফ রে কল দাও। দোয়া করো। অমুকের পেটে ব্যাথা উঠছে, দোয়া করো। অমুক মরে গেছে, দোয়া করো।
সারা পরিবার আকাম করবে আর যেই মালটারে ধইরা বাইন্ধ্যা মাদরাসায় পড়ানো হইছে অয় দোয়া করবে। সব গুনাহ মাফ হইয়া ধুইয়া সাফ হইয়া যাবে।
কোথাও মিলাদ পড়াবে শুনলে আমি যাইতাম না, যাই না। কোথাও দোয়া হবে আমি যাইতাম না। কেউ অসুস্থ আমি যাইতে চাইতাম না। কেন? কারণ একটাই, গেলেই শুরু হবে "আলিফ এইটা পড় ঐটা পড় দোয়া পইড়া ঝাঁড় ফুক কর"। আমি কি ঝাড় ফুক শিখ্যা বইসা আছি?
তো আমি বিরক্ত হই বলেই যাই না। আর যেখানে ঠেকে যাই, কিছু না বুঝেই সুরা ফাতেহা অথবা দরূদ শরীফ পড়ে ফু দিয়ে দেই। তারা খুশি হইয়া যায়!!
আজ আমি যখন এটা লিখছি, আমার নানা মরে মরে অবস্থা। নানা মিরপুরে ছিলো এখন সবাই আশা ছেড়ে দিছে তাই বাড়িতে নিয়ে গেছে। আমাকে মা ফোন দিছে। আমি তো সরাসরি না করতে পারি না। ঠেকায় পড়েই যাচ্ছি।
কথা হচ্ছে নানার প্রতি আমার আবেগ, ভালোবাসা কম? না কম না। তাইলে আমি কেন যাইতে অনাগ্রহী? আমি দোয়ার বাক্সটা হইতে চাই না। এইটা বিরক্তিকর।
Comments
Post a Comment